ক্রিমিয়ার ঐতিহাসিক জাদুঘরে ড্রোন হামলা, ট্রেন চলাচলে কড়াকড়ি

রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় এবার ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো একটি ঐতিহাসিক জাদুঘর। হামলার পর সেভাস্তোপোলের গুরুত্বপূর্ণ ওই স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ক্রিমিয়া ও রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় রাতের ট্রেন চলাচলেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১০ জুন) ভোরে সেভাস্তোপোলের রুশ-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ টেলিগ্রামে জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ‘ডিফেন্স অব সেভাস্তোপোল ১৮৫৪-১৮৫৫’ প্যানোরামা জাদুঘরের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ছাদে আগুন ধরে যায়।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়, এটি প্রতিরোধ ও স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক, যা বহুবার শত্রুর আঘাত সহ্য করেছে।’
ঐতিহাসিক এই জাদুঘরটি ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৬ সালের ক্রিমিয়ান যুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্য ও তাদের মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ সংগ্রামের স্মৃতি বহন করে।
রাজভোজায়েভ আরও দাবি করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেভাস্তোপোল অবরোধ চলাকালে একই ভবন জার্মান বিমানবাহিনীর ব্যাপক বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছিল। হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনার জন্য ‘শত্রুকে মূল্য দিতে হবে’।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় ও সেভাস্তোপোলের উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে, সোমবার সংঘটিত আরেকটি ড্রোন হামলার পর ক্রিমিয়ায় রাতের ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। ক্রিমিয়ার গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ জানান, মস্কো থেকে সিমফেরোপোলগামী ৬৮ নম্বর যাত্রীবাহী ট্রেনের লোকোমোটিভে একটি ড্রোন আঘাত হানে।
তার ভাষ্য, ওই হামলায় সহকারী লোকোমোটিভ চালক নিহত হন এবং প্রধান চালক আহত হন। তবে ট্রেনে থাকা কোনো যাত্রী হতাহত হননি।
ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আটটি যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে যাত্রীদের বাসের মাধ্যমে সিমফেরোপোল ও সেভাস্তোপোলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা
ভিওডি বাংলা/এমএস







