হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমা নয়: ইরান

নৌপথ হিসেবে কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমা নয়; এটি ইরান ও ওমানের যৌথ সার্বভৌমত্বের আওতাভুক্ত এলাকা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমা নয়, এটি ইরান ও ওমানের যৌথভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। এর সামুদ্রিক সীমানা একেবারেই স্পষ্ট।’
তিনি জানান, প্রণালিটির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ৩৯ কিলোমিটার এবং পুরো অংশই ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এ অবস্থান দুই দেশকে প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়। যদিও ঐতিহাসিকভাবে এ জলপথ দীর্ঘদিন ধরে প্রায় বাধাহীনভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে ইরানের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, এ পথে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অংশ।
একই পোস্টে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির বিষয়েও মন্তব্য করেন আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি বাহিনীগুলোকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আরাগচির ভাষ্য, ‘ইরানের ভূখণ্ডের কাছাকাছি থাকা বিদেশি বাহিনী নিজেদের করা কোনো মানবিক ভুল, নিছক কোনো দুর্ঘটনা অথবা কোনো ধরণের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকছে সব সময়ই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঝুঁকি কমাতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যত দ্রুত সম্ভব সেই অঞ্চল ত্যাগ করা।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইরান কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেয়। তবে প্রয়োজন হলে অন্য উপায়েও জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/এমএস







