• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নতুন বাজেট ‘যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা’: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এ.এম.
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

নতুন অর্থবছরের বাজেটকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি সম্ভাবনাময় মোড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, ঘোষিত বাজেটটি শুধু আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের একটি “সৃজনশীল রূপরেখা”।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা পেশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। তার ভাষায়, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং নীতি বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণে অর্থনৈতিক কাঠামো অনেকাংশে চাপের মধ্যে পড়ে।

তিনি দাবি করেন, এসব কারণে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও কার্যকারিতা হারিয়েছে। তবে নতুন বাজেট সেই স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার মতে, অর্থনীতিকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হলে পরিকল্পিত সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এতে কিছু নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে খুব বেশি দেখা যায়নি।

তিনি বিশেষভাবে কয়েকটি দিক তুলে ধরেন-

১. পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি

নতুন বাজেটে পরিবারপ্রধান নারীদের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

২. কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি

কৃষি খাতে বরাদ্দ ও সহায়তা কর্মসূচি বাড়ানোর বিষয়টি তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নকে গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানও বাড়বে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বাজেটে কর ও নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা ছাড়া অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। এ জন্য শুল্কনীতি ও কর কাঠামো আরও সহজ ও ব্যবসাবান্ধব হওয়া দরকার।

বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’র ওপর গুরুত্ব দেওয়াকে তিনি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল খাতকে অর্থনীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য এটি একটি বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র।

এছাড়া জাতীয় পর্যায়ের খেলাধুলা, প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।

বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, এসএমই খাতে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ, প্রবাসী কল্যাণ তহবিল বৃদ্ধি এবং হাইটেক পার্কের উন্নয়ন—এসব উদ্যোগ কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য গ্রামীণ পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে তিনি মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির অংশ বৃদ্ধি করা হলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সম্ভব হবে। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে জনগণের জীবনমান উন্নত হবে।

তার মতে, একটি টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি হলো শিক্ষিত ও সুস্থ জনগোষ্ঠী।

বাজেটে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

তার মতে, কর ব্যবস্থাপনা সহজ করা, রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো হলে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

তার মতে, উৎপাদন বাড়লে সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বাজারে দামের চাপ কমবে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা স্বস্তিতে আসবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিদ্যুৎ বিভাগে ১৪,৯৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
বাজেট ২০২৬-২৭ বিদ্যুৎ বিভাগে ১৪,৯৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
ভূমিকম্প মোকাবিলায় আধুনিক সরঞ্জাম বাড়ানোর উদ্যোগ
বাজেট ২০২৬-২৭ ভূমিকম্প মোকাবিলায় আধুনিক সরঞ্জাম বাড়ানোর উদ্যোগ
ইসির জন্য ৪৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
বাজেট ২০২৬-২৭ ইসির জন্য ৪৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব