• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা: সামনে আরও কঠিন আলোচনা আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কী শান্তির সূচনা, নাকি নতুন জটিলতার দরজা? দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হবে: কৃষিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে যানজট নিরসনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন বেনজীরকে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ? ত্রাণের অর্থ পেলেন  জামায়াত এমপির এপিএস ও স্বজনরা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল

বেনজীরকে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ?

মেহেদী সৌরভ    ১৫ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পি.এম.
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। ছবি: ভিওডি বাংলা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে পলাতক থাকা পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর পর থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য সময় এবং আইনি জটিলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুদকের মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। গত ১২ জুন এ বিষয়ে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

রোববার (১৪ জুন) রোববার জাতীয় সংসদে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে, দুর্নীতি মামলার আসামি বেনজীর আহমেদ বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

এদিকে, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন দুবাই থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেশে ফেরানো কি সম্ভব?

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ ও দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি স্থানান্তর সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর দুবাইয়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আওতায় গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে গেলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ফেরত চাওয়া সম্ভব।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে হস্তান্তর করা হয় না। সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত, আইন এবং চুক্তির শর্ত বিবেচনা করে প্রত্যেকটি আবেদন পর্যালোচনা করা হয়।

প্রত্যর্পণের আইনি ধাপ

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে বাংলাদেশ সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠাবে। এরপর আমিরাতের আদালত অভিযোগ ও নথি পর্যালোচনা করবে।

আন্তর্জাতিক আইনের ‘দ্বৈত অপরাধ’ নীতির আওতায় যে অভিযোগে প্রত্যর্পণ চাওয়া হচ্ছে, তা দুই দেশেই অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হতে হয়। দুর্নীতি ও অর্থপাচার উভয় দেশেই গুরুতর অপরাধ হওয়ায় এ শর্ত পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া বেনজীর আহমেদ আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আপত্তি বা আপিল করার সুযোগ পাবেন। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।

কত সময় লাগতে পারে?

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সময় নির্ভর করবে আইনি প্রক্রিয়া ও তার অবস্থানের ওপর।

তিনি যদি কোনো আপত্তি না করেন এবং আমিরাত সরকার দ্রুত সহযোগিতা করে, তাহলে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যর্পণ সম্ভব হতে পারে।

স্বাভাবিক বিচারিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে ছয় থেকে ১২ মাস।

আর তিনি যদি আইনি লড়াই শুরু করেন বা উচ্চ আদালতে আপিল করেন, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া এক থেকে দুই বছর বা তারও বেশি সময় দীর্ঘ হতে পারে।

কী কী জটিলতা তৈরি হতে পারে?

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনজীর আহমেদ দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ করে প্রত্যর্পণ ঠেকানোর চেষ্টা করতে পারেন। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার সম্পদ, ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসা থাকলে আইনি প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে।

তবে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং বাংলাদেশ-আমিরাতের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি বাংলাদেশের অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার: অতীতের ঘটনা

ইন্টারপোলের সহায়তায় অতীতে বেশ কয়েকজন পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তারের প্রায় পাঁচ মাস পর বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।

এছাড়া ইন্টারপোলের সহায়তায় বিভিন্ন সময়ে ফেরত আনা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্র থেকে মো. আবুল কালাম, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আরিফুল ইসলাম (শিমুল), ইরান থেকে নান্নু মিয়া, মালয়েশিয়া থেকে আবদুর রহমান ও পেয়ার আহমেদ, সিঙ্গাপুর থেকে মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, সৌদি আরব থেকে আবু তাহের ও কামরুল ইসলাম, নিউজিল্যান্ড থেকে আবদুর রহমান মিয়া, ভারত থেকে চন্দু মোহাম্মদ সদরুদ্দিন এবং ইউএই থেকে সাঈদ ও তারেক আহমেদ।

অন্যদিকে, অর্থ কেলেঙ্কারির মামলায় ২০২২ সালে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া পি কে হালদার এখনও দেশে ফেরেননি। কারণ, তার বিরুদ্ধে ভারতেও মামলা চলমান রয়েছে।

এছাড়াও আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জটিলতায় পড়ে, কারণ তার কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকার তথ্য সামনে আসে। তবে এখন পর্যন্ত আরভ খান ওরফে রবিউল ইসলামকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ৪ মে মাসে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি ২০২০ সালে আইজিপির দায়িত্ব পান এবং ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

ভিওডি বাংলা/এমএস

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রথমবার এমপি হয়েই চমক, আলোচনায় ইশরাকের ১০০ দিনের অর্জন ও পরিকল্পনা
প্রথমবার এমপি হয়েই চমক, আলোচনায় ইশরাকের ১০০ দিনের অর্জন ও পরিকল্পনা
ভারত-চীন জল্পনা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া
ভারত-চীন জল্পনা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া
রামিসা জ্ঞান হারানোর পরেও চলে পাশবিক নির্যাতন
জবানবন্দিতে লোমহর্ষক বর্ণনা রামিসা জ্ঞান হারানোর পরেও চলে পাশবিক নির্যাতন