বরখাস্ত হতে পারেন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল

খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খানের 'ঝুলিয়ে পিটিয়ে মারার' বক্তব্যে ঘিরে কদিন ধরে তোলপাড় চলছে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে। পৌঁছেছে পুলিশ প্রধানের কানেও।
এই বক্তব্যের ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিবৃতকর পরিস্থিতিতে পড়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রগুলো বলছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়েও রাশিদুলের এমন অশোভনীয় বক্তব্য পুলিশের হাইকমান্ডকে বিব্রত করেছে। পুলিশ প্রধান নিজেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সূত্র বলছে, নিয়ম অনুযায়ী রাশিদুলকে সাময়িক বরখাস্ত করে বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলবে।
পুলিশ সদর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে, “দারোগা বা ইন্সপেক্টরকে বলার পর কোনো ইনফরমেশন যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি ইন্সপেক্টরকে ঝুলায় দেব, আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাব।”
এদিকে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময় এই পুলিশ কর্মকর্তার দেয়া বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য।
মঙ্গলবার বক্তব্য দিলেও তা সাইবার প্ল্যাটফর্মে ছড়ানোসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জোড়ালো আলোচনা ওঠে শনিবার (২০ জুন)।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের হাতে খুন হয়েছেন ৮৯ জন। গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড়ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
যা ঘটেছিল সেই সভায়: স্থানীয়রা বলছেন, একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও আতঙ্কে তারা থানায় অভিযোগ করেন না। পুলিশ অভিযান চালালেও কেউ ধরা পড়ে না। এজন্য ওই এলাকার বিভিন্ন মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ।
সেই সভায় থাকা বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা বলেন, “এই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী। কে পুলিশকে তথ্য দেবে? আবার পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেওয়ার পর সন্ত্রাসীদের তারা জানিয়ে দেয়।”
এর প্রতিক্রিয়ায় ভিডিওতে দেয়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি:
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ জানিয়ে শনিবার বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন একটি বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে লবনচরা থানার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত উক্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক সদস্য বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের উদ্বেগ ও মতামত প্রকাশ করেছেন।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় থাকলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধি-বিধান ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এ ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য পন্থা।
“দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় থাকলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধি-বিধান ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এ ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য পন্থা।”
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ







