শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

দেশকে শব্দদূষণমুক্ত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ এখন নগরজীবনের বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে মাথাব্যথা, অনিদ্রা, বিরক্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং শ্রবণশক্তি হ্রাসের মতো নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহারের কারণে শুধু পথচারী নয়, চালকরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাই শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া এই সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর কয়েকটি এলাকাকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের নির্দিষ্ট অংশকে নীরব এলাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকাকেও এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার, বিআরটিএ’র পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ‘৬৪ জেলার শহরাঞ্চলে শব্দমাত্রা পরিমাপ বিষয়ক জরিপ প্রতিবেদন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
ভিওডি বাংলা/জা







