• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

রাখাইনে বোমা বিস্ফোরণ, কাঁপছে টেকনাফ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি    ২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৬ এ.এম.
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফের তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) রাতে মংডু শহরতলিতে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। পাল্টা জবাব দিয়েছে আরাকান আর্মিও। সীমান্তের ওপারে চলা এই সংঘাতে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন।

সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে মংডু শহরতলির বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা শুরু হয়। নাফ নদীর ওপারে আগুনের ঝলকানি ও বিস্ফোরণের শব্দ স্পষ্টভাবে দেখতে ও শুনতে পাচ্ছেন টেকনাফের বাসিন্দারা।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, রাত সোয়া ৯টার পর থেকে মংডু এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। থেমে থেমে বিমান হামলাও চালানো হচ্ছে। রাত ১১টা পর্যন্ত সীমান্তের এপারে বসেই হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে তীব্র কম্পন অনুভূত হচ্ছে। সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নাফ নদীতে কোস্টগার্ড ও সীমান্তে বিজিবি টহল দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ বলেন, মংডুর দিক থেকে বিস্ফোরণের পর আগুনের ঝলকানিসহ কিছু বস্তু নাফ নদীর দিকে এসে পড়ছে। রাতের অন্ধকারে আগুনের ঝলকানি দেখা যাচ্ছে, পরে তা নিভে যাচ্ছে। এসব বস্তু লোকালয়ে পড়লে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুলালপাড়ার বাসিন্দা মো. সোহেল জানান, তাঁর বাড়ি সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। হঠাৎ কয়েক দফা তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আগের তুলনায় এবারের হামলার তীব্রতা অনেক বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।

হ্নীলা ইউনিয়নের হোয়াকিয়াপাড়ার বাসিন্দা আয়েশা ছিদ্দিকী বলেন, রাতের বিস্ফোরণে তাঁর বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। বিকট শব্দে সন্তানের ঘুম ভেঙে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে।

সীমান্ত সূত্রগুলো জানায়, মংডু টাউনশিপের হাইন্দাপাড়া ঘাঁটি, তিন মাইল, সিকদারপাড়া, ৫ নম্বর বিজিপি ও ১ নম্বর বিজিপি সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বিমান থেকে বোমা ফেলার পাশাপাশি গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকটি গ্রামে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের আশঙ্কাও রয়েছে।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। সীমান্ত ও নাফ নদীতে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ অবস্থায় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিজিবি ও কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, টানা ১১ মাস সংঘাতের পর ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুচিডং ও রাচিডং টাউনশিপসহ প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা দখলে নেয় আরাকান আর্মি। ওই অঞ্চলগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা অবস্থিত। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে আবারও আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও সংঘাতে জড়িয়েছে আরাকান আর্মি।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
সিংগাইরে পাটক্ষেতে মিলল অটোচালকের মরদেহ
ছবি: ভিওডি বাংলা
পাংশায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১
ছবি: ভিওডি বাংলা
এক ছড়ায় ১২ কলার মোচা, এলাকায় চাঞ্চল্য