জ্বালানিমন্ত্রী
বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা দেনা রেখে গেছে হাসিনা সরকার

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে বিগত হাসিনা সরকার ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। ওই বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি নতুন দায়ও সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি মাসে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বিপুল অর্থ।
সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ বিষয়ক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সাড়ে ১৫ বছরে গৃহীত অধিকাংশ প্রকল্পে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর বর্তেছে।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান সরকারকে অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আগের সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির ফলে সরকারকে তুলনামূলক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি আমদানি ব্যয়ও কমবে।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আরও দক্ষ, টেকসই ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তবে, কোনোভাবেই উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় বা উৎপাদনের অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।’
এ সময় তিনি রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা করে পতিত জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত সংরক্ষণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল শক্তি জনগণ। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বিপুল ঋণের বোঝা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি নাগরিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
ভিওডি বাংলা/আরআই/এমএস








মন্তব্য