মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রতিমন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শকে সামনে রেখে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনই সরকারের লক্ষ্য।
বুধবার (৬ মে) মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়া ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নির্যাতিত, নিগৃহীত ও নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
মুন্সীগঞ্জ জেলার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন,এ জেলার উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা, বাসস্থান ও মাসিক ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, যার ব্যয় মন্ত্রণালয় বহন করছে। সরকার রাষ্ট্রীয় সব কার্যক্রমে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই কাজ শুরু করে।
ইশরাক হোসেন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সগুলো সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য বাজেট বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভাঙচুর রোধে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক ও স্থাপনার নামকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে আবেদন করে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। কোথাও সমস্যার সম্মুখীন হলে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
প্রতিটি উপজেলায় জমি বরাদ্দ দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করে সেখান থেকে আয় মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করার একটি প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, গৃহহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আছেন কি না, তা যাচাই করা হবে এবং বাদ পড়াদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। এ ধরনের অপব্যবহার আর হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে নানা অনিয়ম ও নৈতিক অবক্ষয় দেখা গেছে। সেসব থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
নদীদূষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীতে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। আইন মেনে পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আহ্বায়ক মহসিন মিয়া, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/এফএ







