আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নাজিফা তুষির ‘অ্যানি’

পাঁচ বছর পর নতুন নির্মাণ নিয়ে ফিরেছেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’খ্যাত নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ। তার নির্মিত মিনি সিরিজ ‘অ্যানি’ এবার জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, আর এর মধ্য দিয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি।
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ উৎসব সেরিয়েনক্যাম্পের ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশি এই সিরিজ। আগামী ৯ জুন জার্মানির কোলনে অনুষ্ঠিত উৎসবে প্রদর্শিত হবে ‘অ্যানি’।
গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা—সবকিছুই করেছেন আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ। এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি সিরিজ, যা সেরিয়েনক্যাম্প উৎসবে নির্বাচিত হলো।
ডিস্টোপিয়ান আবহে নির্মিত ‘অ্যানি’র কেন্দ্রে রয়েছে এক নার্সের গল্প। ছোট শহরে পাঁচ ভাইবোনকে একাই বড় করার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে দেখা যাবে অ্যানিকে। এরই মধ্যে বাইরের পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে রহস্যময় এক ‘ঘৃণা মহামারি’, যেখানে আক্রান্ত পুরুষরা নারীদের প্রতি চরম বিদ্বেষে উন্মত্ত হয়ে ওঠে।
গল্পের এক পর্যায়ে মুখোশধারী হামলাকারীর আক্রমণের শিকার হয় অ্যানি। এরপর তার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। প্রতিশোধ আর টিকে থাকার লড়াই তাকে ঠেলে দেয় এক অন্ধকার বাস্তবতার মুখোমুখি।
নির্মাণশৈলীতে সিরিজটি ‘চেম্বার ড্রামা’ ঘরানার। নারী-পুরুষ সম্পর্কের ভেতরে থাকা অবিশ্বাস, বৈষম্য ও সহিংসতার নানা দিক এতে তুলে ধরা হয়েছে।
সিরিজটিতে নাজিফা তুষির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন ও ফারহানা মিঠুসহ আরও অনেকে।
প্রযোজনায় রয়েছেন এহসানুল হক বাবু ও আলি আফজাল উজ্জ্বল। সহ-প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন শিহাব নূরুন নবী, তুহিন তামিজুল, তানভীর হোসেন, জোহান চ্যাপেলান ও সাইফুল ইসলাম। নির্বাহী প্রযোজক অপূর্বা বকশি।

সিরিজটি নিয়ে অপূর্বা বকশি বলেন, ‘একটি সিরিজকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে এই চলচ্চিত্র উৎসবের বাইরে গিয়ে সরাসরি সিরিজ উৎসবের মাধ্যমেও পৌঁছানো সম্ভব। ‘অ্যানি’র মাধ্যমে আমরা সেই সম্ভাবনার একটি উদাহরণ তৈরি করতে চেয়েছি।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ দিয়ে নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ। পরে ২০২১ সালে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ নির্মাণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নতুন ইতিহাস গড়েছিল।
ভিওডি বাংলা/এমএস







