• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার আলো

য‌শোর প্রতি‌নি‌ধি    ৮ মে ২০২৬, ০৫:০৭ পি.এম.
ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলছে নদী পুনঃখননের কাজ। ছবি-ভিওডি বাংলা

যশোরের ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বছরের পর বছর পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবন কাটানো প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এগোচ্ছে নদী পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকল্পের আওতায় ৬টি নদীর পুনঃখননের কাজের ইতোমধ্যে ৫৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, প্রকল্প এলাকায় প্রতিদিন শতাধিক এস্কেভেটর দিয়ে নদীর তলদেশ খননের কাজ অব্যাহত রয়েছে। শুধু ৫ মে ১০৯টি এবং ৪ মে ১১২টি এস্কেভেটর কাজে নিয়োজিত ছিল। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাউবোর খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক বি এম আব্দুল মোমিন বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পুনঃখননের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও সময় লাগতে পারে। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, চলতি বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং সাম্প্রতিক ডিজেল সংকটের কারণে কিছুটা ধীরগতি তৈরি হলেও প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়নি। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে গত বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে খনন কার্যক্রম শুরু হয়। 

দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ১৪০ কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় ভবদহ এলাকার ৬টি নদীর মোট ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতি ফিরবে এবং জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

যশোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, সরকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ায় এবার বর্ষায় নতুন করে ব্যাপক পানি জমার আশঙ্কা তুলনামূলক কম। তিনি জানান, জুনের মধ্যেই নদী পুনঃখননের অধিকাংশ কাজ শেষ হবে।

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে ভবদহ অঞ্চলের ৩৩টি স্লুইস গেটের মধ্যে ২৯টির পরিষ্কার ও সচল করার কাজ চলছে। বর্ষার আগেই এগুলো পুরোপুরি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে পাউবো।

এছাড়া কয়েক বছর আগে ভবদহের ২১ কপাটবিশিষ্ট স্লুইস গেটে বসানো চারটি সেচ পাম্প পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনে সক্ষম হয়নি। এ কারণে এবার সেখানে আরও পাঁচটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিল খুকশিয়ার ৩ কপাটবিশিষ্ট স্লুইস গেটেও আরও তিনটি পাম্প বসানো হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুধু নদী খনন নয়, উজান থেকে ভাটির দিকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এলাকার বিভিন্ন সংযোগ খালও পরিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি পাম্পগুলো সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। বর্ষা এলেই ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রবাসী দিপালীর দাফন সম্পন্ন
প্রবাসী দিপালীর দাফন সম্পন্ন
হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
জ্বালানির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী