স্বামীহারা বৃদ্ধার ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১ নম্বর রশিদাবাদ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ কচুরি গ্রামের বৃদ্ধা মোছা. হাবিবার জীবন এখন এক নিঃসঙ্গ সংগ্রামের নাম। বয়সের ভার, অসুস্থতা আর চরম দারিদ্র্যের চাপে তার প্রতিদিনের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে অমানবিক কষ্টের প্রতিচ্ছবি। একসময় স্বামী ও সন্তান নিয়ে স্বাভাবিক সংসার ছিল তার, কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাসে সবকিছু আজ স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।
হাবিবার স্বামী আব্দুল কাদিরের বাড়ি ছিল কটিয়াচর এলাকায়। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। তবে সংসার জীবনের চার বছর পর তাদের কোলজুড়ে আসে একমাত্র কন্যা সন্তান হাকিমা। সন্তানের জন্মের কিছুদিন পরই হঠাৎ স্বামী আব্দুল কাদির মারা যান। সেই মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে হাবিবার জীবন।

স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি কটিয়াচরে আর ঠাঁই হয়নি তার। বাধ্য হয়ে তিনি ফিরে আসেন বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণ কচুরিতে। কিন্তু সেখানেও ছিল না কোনো স্থায়ী আশ্রয় বা আর্থিক নিরাপত্তা। মায়ের দেওয়া মাত্র এক শতাংশ জমির ওপর একটি ছোট ঝুপড়ি ঘরেই শুরু হয় তার নতুন সংগ্রাম।
অভাবের মধ্যেও মেয়েকে বড় করে তুলেছিলেন হাবিবা। পরে স্থানীয়ভাবে মেয়ের বিয়ে দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মমতায় মেয়ের জীবনও সুখের হয়নি। বর্তমানে তার জামাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী, ফলে মেয়ের পরিবার থেকেও কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নেই।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাবিবা নিজেও এখন শারীরিকভাবে দুর্বল। আগের মতো কোনো ভারী কাজ করতে পারেন না তিনি। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেন, আবার কখনো সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দিন কাটান। তবে নিয়মিত কোনো আয় না থাকায় তার জীবন প্রায় অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
হাবিবার সবচেয়ে বড় সংকট এখন চিকিৎসা ব্যয়। তিনি জানান, মাসে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা শুধু ওষুধের পেছনে খরচ হয়। অনেক সময় সেই টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয় না। ফলে ওষুধ না খেয়েই দিন কাটাতে হয় তাকে। এমনকি অনেক সময় খাবার জুটলেও ওষুধের অভাবে অসুস্থতা বেড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, কখনোই কারও কাছে সরাসরি হাত পাতেন না। অন্যের সহানুভূতিতে যা পান, সেটুকুই নীরবে গ্রহণ করে কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, হাবিবার মতো অসহায় মানুষের সংখ্যা সমাজে কম নয়, কিন্তু তাদের পাশে কার্যকর সহায়তা পৌঁছায় না। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত সহায়তা না পেলে এমন বৃদ্ধাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
হাবিবার একটাই প্রত্যাশা-যদি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি বা সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন তিনি।
মানবিকতার এই চরম সংকটে হাবিবার জীবন যেন এখন সমাজের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করছে-একজন বৃদ্ধা মায়ের শেষ ভরসা কি শুধুই সহানুভূতি?
ভিওডি বাংলা/মোঃ. ওমর সিদ্দিক রবিন/জা







