হাম রোগ কী? লক্ষণ, কারণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। হামের লক্ষণ, কারণ, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। শিশুদের জন্য কেন হাম টিকা জরুরি তা জেনে নিন।
হাম রোগ কী?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। তবে প্রাপ্তবয়স্করাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। হামের ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকা না নিলে এটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর অসংখ্য শিশু হাম রোগে আক্রান্ত হয়। তবে টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
হামের কারণ কী?
হাম রোগের প্রধান কারণ হলো গবধংষবং ারৎঁং। এটি সংক্রমিত ব্যক্তির নাক ও মুখের নিঃসরণ থেকে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যরা সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন।
বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের মধ্যে হাম হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
হামের লক্ষণ
হাম রোগের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে দেখা দেয়।
সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
* উচ্চ জ্বর
* শুকনো কাশি
* নাক দিয়ে পানি পড়া
* চোখ লাল হয়ে যাওয়া
* গলা ব্যথা
* শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
* দুর্বলতা ও অরুচি
সাধারণত প্রথমে মুখে বা কানের পেছনে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, পরে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
হাম কীভাবে ছড়ায়?
হাম অত্যন্ত দ্রুত সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।
হামের জটিলতা: হামকে অনেকেই সাধারণ রোগ মনে করলেও এটি অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
যেমন:
* নিউমোনিয়া
* ডায়রিয়া
* কানের সংক্রমণ
* মস্তিষ্কে প্রদাহ
* অপুষ্টি
* শ্বাসকষ্ট
শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি।
হামের চিকিৎসা
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণত লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চিকিৎসার অংশ হিসেবে—
* পর্যাপ্ত বিশ্রাম
* প্রচুর পানি পান
* পুষ্টিকর খাবার
* জ্বর কমানোর ওষুধ
* ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট
জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হাম প্রতিরোধের উপায়
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ।
প্রতিরোধে যা করবেন:
* সময়মতো হামের টিকা দিন
* আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
* পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন
* হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন
* শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করুন
হামের টিকা কেন জরুরি?
হাম প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত কার্যকর। শিশুদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা দেওয়া হয়।টিকা শুধু ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেয় না, সমাজেও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি শিশুর উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, খেতে না পারা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। বিশেষ করে ফুসকুড়ির সঙ্গে জ্বর থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়।
উপসংহার: হাম একটি সংক্রামক হলেও প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সচেতনতা, সময়মতো টিকা এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি।
হামকে অবহেলা না করে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ







