একই পরিবারে ৫ হত্যা, চিঠিতে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মা-মেয়েসহ একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। স্ত্রীর পরকীয়া এবং শ্বশুরের ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন- এমন অভিযোগ করে লাশের পাশে একটি চিঠি লিখে রেখে গেছেন নিহত শারমিন আক্তারের স্বামী ও হত্যাকারী ফোরকান।
শনিবার কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, চিঠিগুলো পড়ে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফোরকান জড়িত। ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং পরকীয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি ফোরকান। এছাড়া ঘরে রান্না করা সেমাই, কোকাকোলা ও একটি মদের বোতল পাওয়া গেছে। খাবারে চেতনানাশক মেশানো হয়েছিল কিনা সেটিও খতিয়ে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিরে কাজ চলছে। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক। তাকে ধরতে একাধিক টিম কাজ করছে।
এর আগে, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার, তিন মেয়ে মীম খানম, উম্মে হাবিবা, ফারিয়া ও শ্যালক রসুল মিয়া।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান স্বজনদের কল করেছেন এবং নিজেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা জানিয়েছেন। পরে শনিবার ভোরে তারা ওই বাড়িতে এসে দরজা খোলা দেখতে পান এবং ঘরে ঢুকে সবার লাশ দেখতে পান। এ সময় তারা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত লাশগুলো পড়ে থাকতে দেখেন। তিন সন্তানের গলাকাটা লাশ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়েছিল। শারমিনের ভাই রসুল মিয়ার লাশ ছিল বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শারমিনের লাশ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখা যায়।
বাড়ির আশপাশের লোকজন জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে থেকে ফোরকান রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতে থাকে। এখানে আসার পর থেকে ফোরকান ও শারমিনের মাঝে পারিবারিক কলহের জেরে প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটতো।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পলাতক ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক। বছরখানেক আগে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ বসবাস শুরু করেন।
কাপাসিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ফোরকান পালিয়ে গেছেন। শনিবার সকালে নিহতের পরিবারের এক সদস্যকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে তারা ৯৯৯-এ কল করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চলছে। কাপাসিয়ার আমরাইদ এলাকা থেকে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ফোরকানের ঘনিষ্ঠ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, লাশের পাশে পড়ে থাকা গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লিখিত স্বাক্ষর ও তারিখবিহীন একটি অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। এতে মো. ফোরকান তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ১১ জনের নামোল্লেখ করে এবং আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে ফোরকান দাবি করেন, তার শ্বশুর তার উপার্জনের ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজ এলাকায় জমি কিনেছেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় টাকা ফেরত চাইলেও তিনি এখন সেই টাকা দিচ্ছেন না। এছাড়া স্ত্রী শারমিন বেশ কিছুদিন যাবত পরিকীয়ায় আসক্ত বলেও অভিযোগে দাবি করেন ফোরকান। গত ৩ মে মেঝো মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে শারমিনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি ফোরকানকে শারীরিক নির্যাতন করে। এসব ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান ফোরকান।
ভিওডি বাংলা/এফএ







