ইবির প্রভোস্ট কক্ষে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সিট বরাদ্দ নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৈধভাবে কক্ষ বরাদ্দ পাওয়ার পরও নির্ধারিত সিটে উঠতে না পারার অভিযোগ তুলে হলের প্রভোস্ট কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৯ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিন শিক্ষার্থী প্রভোস্ট কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। পরে সেখানে বিছানা পেতে তারা অবস্থান চালিয়ে যান। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন-আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর, একই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোবারক উল্লাহ এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আরিফ। হল প্রশাসনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী তারা যথাক্রমে ৩২৫, ২১৫ ও ৩২৭ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ পেয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে তারা সিটের জন্য আবেদন করেন এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। পরে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কক্ষে গিয়ে কোনো খালি আসন পাননি তারা। বরাদ্দকৃত কক্ষগুলোতে আগে থেকেই অন্য শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলেন। ফলে নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সেখানে থাকার সুযোগ তৈরি হয়নি।
তাদের অভিযোগ, অনেক কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু কক্ষে ফাঁকা আসন থাকলেও সেগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তারা।
অবস্থানরত শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, “আমাকে ৩২৫ নম্বর রুমে সিট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি আগেই একজন অবস্থান করছে। পরে আবার একই রুমে আরও কয়েকজনকে সিট দেওয়া হয়েছে। ফলে আমার থাকার কোনো জায়গা নেই। হলে সিট পাওয়ার পর আমি আগের মেস ছেড়ে দিয়েছি। এখন চরম বিপাকে পড়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রভোস্টের মেয়াদ শেষ হতে আর অল্প কয়েকদিন বাকি। এরপর নতুন প্রশাসন এ সমস্যার সমাধান করবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। তাই বাধ্য হয়েই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।”
আরেক শিক্ষার্থী তানভীর আরিফ বলেন, “আমাকে যে কক্ষে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটি দুই সিটের রুম। সেখানে আগেই তিনজন শিক্ষার্থী থাকছেন। চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে সেখানে থাকা সম্ভব নয়। অথচ হলের অনেক রুমে অবৈধভাবে অন্য হলের শিক্ষার্থীরা থাকছেন। প্রশাসনকে বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েছি, কিন্তু তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, হল প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণেই শিক্ষার্থীরা এমন সংকটে পড়েছেন। দ্রুত সুষ্ঠু সিট ব্যবস্থাপনা না হলে আরও শিক্ষার্থী আন্দোলনে যুক্ত হতে পারেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি সেশনজুড়ে হলের সিট বরাদ্দ নিয়ে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে বৈধ ও অবৈধ আবাসিকদের তালিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকৃত আসন সংখ্যা ও অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, “হলের স্টাফদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সিট বরাদ্দ করা হয়েছে। পরে দেখা গেছে তথ্যে কিছু গড়মিল ছিল। এ কারণেই জটিলতা তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাইনি। বর্তমানে আমি ক্যাম্পাসের বাইরে রয়েছি। শিক্ষার্থীদের চলমান অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।”
ভিওডি বাংলা/জা







