আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ পেলেন হারুন অর রশীদ ও শাহরিয়ার

সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এবং তার ভাই, মেরিন সিটি রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম শাহরিয়ার-এর আয়কর সংক্রান্ত সব নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী ও অন্যান্য আর্থিক নথি পর্যালোচনা করা জরুরি বলে মনে করা হয়েছে।
দুদকের পক্ষে উপপরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নথি দ্রুত সরবরাহের নির্দেশ দেন।
আবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম শাহরিয়ার প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এসব সম্পদ অর্জন করে তা নিজের দখলে রেখেছেন।
একই আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সহায়তা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। দুদকের মতে, এ ধরনের সহায়তার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও লুকানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
দুদক জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন ও অন্যান্য আর্থিক দলিল পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে সম্পদের উৎস ও বৈধতা নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুদক এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং ভাই এ বি এম শাহরিয়ার-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
ভিওডি বাংলা/জা







