দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন সোহেল, নির্দোষ দাবি স্বপ্নার

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা। একই সঙ্গে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি দাবি করেছেন, এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে তিনি এসব বক্তব্য দেন। বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে শুনানি চলাকালে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মামলার সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দির সারাংশ তুলে ধরা হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে সোহেল রানা শিশু রামিসার ওপর সংঘটিত অপরাধের দায় নিজের কাঁধে নেন এবং আদালতের কাছে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে তিনি তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে নির্দোষ দাবি করেন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করে ডলার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল রানা বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।
পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরদিন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর ২০ মে ঢাকার একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। সেখানে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সামাজিক, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক সংগঠন বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
তদন্ত শেষে গত ২৪ মে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে এবং ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। অভিযোগ গঠনের পর মঙ্গলবার একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এ সময় নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য, তদন্ত কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের সাক্ষ্যে ঘটনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
ভিওডি বাংলা/জা







