বিশ্বকাপে থাকছে না ভুভুজেলা

২০২৬ বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে ভুভুজেলা নিয়ে ঢুকতে পারবেন না দর্শকেরা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি ভেন্যুর জন্য তৈরি স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে প্লাস্টিকের এই লম্বা হর্ন নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
ভুভুজেলা দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল সংস্কৃতির একটি পরিচিত অংশ। ২০১০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যালারি থেকে এই বাদ্যযন্ত্রের তীব্র ও একটানা শব্দ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। কেউ সেটিকে বিশ্বকাপের আলাদা আমেজ হিসেবে দেখেছিলেন, আবার অনেকের কাছে সেটি ছিল বিরক্তিকর শব্দদূষণ। ভুভুজেলার আওয়াজকে অনেক সময় মৌমাছির ঝাঁকের গুঞ্জনের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
ফিফার নতুন নিয়মে শুধু ভুভুজেলা নয়; বাঁশি, এয়ার হর্ন এবং অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করতে পারে এমন যেকোনো যন্ত্র স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না। দর্শকসারি থেকে খেলার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া, খেলোয়াড়দের মনোযোগ নষ্ট হওয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শব্দ তৈরির সরঞ্জামের পাশাপাশি লেজার পয়েন্টার বা লেজার রশ্মি ছড়াতে পারে—এমন কোনো যন্ত্রও নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। অতীতে ফুটবলে গোলকিপার কিংবা পেনাল্টি নিতে যাওয়া খেলোয়াড়ের চোখে লেজার মারার ঘটনা দেখা গেছে। তাই এমন সরঞ্জাম নিয়েও এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে আরও বলা হয়েছে, বডি পেইন্ট বা শরীরে আঁকা উল্কিকে পোশাক হিসেবে গণ্য করা হবে না। স্টেডিয়ামে পোশাক খুলে ফেলা, নগ্নতা প্রদর্শন বা শরীরের সংবেদনশীল অংশ প্রকাশ করাও নিষিদ্ধ আচরণের আওতায় পড়বে।
এর আগে নিরাপত্তা কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপ ভেন্যুতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নেওয়াও নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। এবার ভুভুজেলা ও অতিরিক্ত শব্দ তৈরির সরঞ্জাম নিষিদ্ধের মাধ্যমে দর্শকদের জন্য আচরণবিধি আরও কঠোর করা হলো।
নিয়ম ভঙ্গ করলে দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি ভেন্যুতে ঢোকার পরও কেউ নিষিদ্ধ আচরণ করলে তাঁকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও অন্য একটি দল। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত এই আসর চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি ভেন্যুতে হবে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ







