প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক পাঠ্যবই যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-দর্শনের আলোকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক কাঠামোয় রূপ দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পারবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষার পরিসর বাড়ানো হলে এসব বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার পথ তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিল্প ও সংস্কৃতি শিক্ষার প্রসারের ফলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সংগীত, নৃত্য, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে প্রশিক্ষিত তরুণ–তরুণীরা এই খাতে কাজের সুযোগ পাবেন।
ববি হাজ্জাজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের যেন ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, সে বিষয়ে যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুক্ত করা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সহজ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতিকে কেবল সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের কার্যক্রম এখন থেকেই শুরু করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
সভায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা শিক্ষাব্যবস্থায় শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির জন্য “শিল্প ও সংস্কৃতি” নামে একটি নতুন পাঠ্যবই চালু করা হবে। এতে চারটি মূল অধ্যায় থাকবে-চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা।
পরবর্তীতে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে এসব বিষয়কে আরও বিস্তৃতভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং নান্দনিক বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







