• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

দুই শিক্ষকের ৪ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল

   ১২ জুন ২০২৬, ০৭:১৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ ও সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের মধ্যে হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে ৩ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল দুপুরে কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মিলনায়তনে অধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে আছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ। তার বাম পাশে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন এবং ডান পাশে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বসেছিলেন। এ সময় পিয়ন আব্দুর রহিম তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের আসন থেকে উঠে সহকারী অধ্যাপক মিলনের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে থাপ্পড় ও দাঁত ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে উভয়ের মধ্যে কিল-ঘুষি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং জীববিজ্ঞানের প্রভাষক ওসমান গনি এগিয়ে এসে তাদের নিবৃত করেন।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, গত ২ মার্চ কলেজের শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ৯ এপ্রিল ফিল্টারটি মেরামতের বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করলে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ সময় মিলন প্রতিবাদ জানালে অধ্যক্ষ নিজ আসন ছেড়ে তার দিকে তেড়ে গিয়ে প্রথমে গায়ে হাত তোলেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন বলেন, শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় কয়েক দফা বিষয়টি অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ কলেজের মোটরের পানি পান করার পরামর্শ দেন। পরে চেয়ার থেকে উঠে এসে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একাধিক শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মামুনুর রশীদের আচরণ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কলেজের সব আর্থিক কাজ তিনি একাই করতে চান এবং কাউকে বিশ্বাস করেন না। কলেজের ১৭ থেকে ১৮ জন মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারী বেতন নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শিক্ষকদের সঙ্গেও তিনি খারাপ ব্যবহার করেন। মামুনুর রশীদ তার চেয়ার থেকে উঠে না এলে এ ঘটনা ঘটত না বলেও তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, তিনিই প্রথম সহকর্মীর গায়ে হাত তোলেন।

অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ মে কলেজের ১১ জন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ বলেন,‘যে শিক্ষকের সঙ্গে আমার মারামারি হয়েছে, তিনি কি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ না করলে আপনারা এত আগ্রহ দেখাচ্ছেন কেন? এতে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে চাচ্ছে।’

‎ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ
২০ বছর পর খুলেছে বাংলা ভাইয়ের মাদ্রাসা
২০ বছর পর খুলেছে বাংলা ভাইয়ের মাদ্রাসা
মেধা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা টিভিতে সম্প্রচারের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
মেধা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা টিভিতে সম্প্রচারের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর