আনোয়ারা হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে উধাও স্বামী

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে স্বামীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় হত্যার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। নিহত খাদিজা আক্তার কাশফি (১৮) উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার কাজী বাড়ির আবদুল জলিলের মেয়ে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে পরিবারের অমতে প্রেম করে একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মারুফের সঙ্গে বিয়ে করেন কাশফি। এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ লেগেই থাকত বলে দাবি স্বজনদের। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই কাশফির ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাশফিকে মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বামী মারুফ। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মরদেহ রেখে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় স্পষ্ট দাগ দেখা গেছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশকে অবহিত করা হয়।
স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে আসেন কাশফির স্বজনরা। সেখানে মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের বড় বোন ঝুমুর আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মারুফ তাকে মেরে হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্বজনদের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই কাশফির সঙ্গে যোগাযোগে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। পরে রাতে তারা জানতে পারেন, কাশফির মরদেহ হাসপাতালে পড়ে আছে। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আদরের ছোট মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা শাহীনূর আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মেয়েটা খুব আদরের ছিল। বিয়ের পরও আমি প্রায়ই ওদের বাসায় গিয়ে রান্না করে দিয়ে আসতাম। স্বামীকে ছাড়া সে কিছুই ভাবতে পারত না। সেই মানুষটিই আজ আমার মেয়েকে কেড়ে নিল।”
নিহতের বাবা আবদুল জলিল বলেন, “পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা বিয়ে করেছিল। এরপর থেকেই মেয়েকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। আজ দুপুর থেকেই একটা অশুভ আশঙ্কা হচ্ছিল। রাতে খবর পাই, আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই।”
ঘটনার খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে রেখে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের গলায় দাগ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অনেকেই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/জা







