• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে জাপানের মেয়র, তুমুল বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর ইয়াওয়াতার মেয়র শোকো কাওয়াতা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ৩৫ বছর বয়সী এই তরুণ রাজনীতিকের সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সন্তান জন্মদানের জন্য ছুটি নেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নেই বিভক্ত দেশটির জনমত।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাওয়াতা বলেন, “মানুষের প্রতিক্রিয়া এতটা তীব্র হবে, তা আমি কল্পনাও করিনি।”

কিয়োটো অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শহর ইয়াওয়াতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাওয়াতা। জাপানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য আলাদা কোনো আইনি কাঠামো না থাকায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি নিতে পারছেন না। পরিবর্তে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সন্তান জন্মের নির্ধারিত সময়কে সামনে রেখে তিনি দুই মাস আগে ও দুই মাস পরে—মোট চার মাসের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব ডেপুটি মেয়র শিগেতো নোসের কাছে হস্তান্তর করছেন।

এর মাধ্যমে জাপানের ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়র হিসেবে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যেতে যাচ্ছেন তিনি।

কাওয়াতা জানান, তাঁর সহকর্মীরা সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অনেকেই তাঁর সিদ্ধান্তকে নারীদের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে এবং আরও বেশি নারীকে রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করবে।

অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধির দীর্ঘ সময়ের জন্য দায়িত্ব থেকে দূরে থাকা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। কেউ কেউ এমনকি তাঁর বেতন কমানোর দাবিও তুলেছেন।

তবে এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে কাওয়াতা বলেন, “মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার জন্য নারী রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করলে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী অসংখ্য নারী পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন।”

আকিটাকাটা শহরের সাবেক মেয়র শিনজি ইশিমারু মনে করেন, মূল প্রশ্ন ছুটি নয়; বরং সেই সময়ে নাগরিক সেবা নির্বিঘ্ন রাখা। তাঁর মতে, প্রশাসনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেই এমন ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব।

মাত্র ৩৩ বছর বয়সে জাপানের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নারী মেয়র নির্বাচিত হন শোকো কাওয়াতা। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করা এই রাজনীতিক পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

তবে জাপানে রাজনীতিতে নারীদের উপস্থিতি এখনও খুবই কম। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির ১ হাজার ৭২০ জন স্থানীয় মেয়রের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ নারী।

২০২৫ সালে প্রকাশিত এক সরকারি জরিপে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থা, ‘রাজনীতি পুরুষদের কাজ’—এমন সামাজিক ধারণা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি নারীদের রাজনীতিতে আসার বড় বাধা।

এদিকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী দেশ হওয়া সত্ত্বেও লিঙ্গসমতায় জাপানের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে ১৪৬ দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ১১৮তম।

ডেপুটি মেয়র শিগেতো নোসে বলেন, অতীতে তিনি নিজে পিতৃত্বকালীন ছুটি নেননি। সন্তান লালন-পালনের পুরো দায়িত্ব তাঁর স্ত্রীর ওপরই ছিল। এখন সে সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর অনুশোচনা হয়। তবে নতুন প্রজন্মের পরিবর্তিত মানসিকতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি।

কাওয়াতার বিশ্বাস, জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত জীবন থাকতে পারে না—জাপানি সমাজের এই পুরোনো ধারণাই তাঁর সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্কের অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, “আমাদের এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারীদের ক্যারিয়ার ও পরিবারের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না। বরং তারা যেন দুটি দায়িত্বই সমানভাবে পালন করতে পারেন।”

ভিওডি বাংলা/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পের ৮ দিন পর একজনকে জীবিত উদ্ধার
তেহরানের একটি সড়কে টানানো আলী খামেনির বিশাল বিলবোর্ড। ছবি: এএফপি
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে পারে ২ কোটির বেশি মানুষ
ছবি: সংগৃহীত
দামেস্কে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ৪