{# Both bootstrap.min.css (190KB) and style.css (129KB) async-loaded via preload + onload swap. Inline critical CSS above covers above-the-fold. #} {# Third-party scripts: GA / ShareThis / Cloudflare on idle. AdSense is special — show_ads_impl_fy2021.js was eating 2.1s CPU, so it loads ONLY when an ad slot is near the viewport. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিএনপির ডিজিটাল প্রচারে গুরুত্ব ‘আট কার্ডে’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক    ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৮ পি.এম.
তারেক রহমানের আট দফা পরিকল্পনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে বিএনপিছবি: কোলাজ

সময় বদলেছে, বদলে যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারের ধরনও। আগের মতো পোস্টার–ব্যানারের সুযোগ এখন আর নেই। মিছিল–সমাবেশেও রয়েছে নানা শর্ত। তাই ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারকে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপিও সেভাবেই সাজাচ্ছে তাদের প্রচার কৌশল।

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে যে আট দফা পরিকল্পনা হাজির করেছেন, তা ‘আট কার্ড’ করে মূল বার্তা হিসেবে প্রচারের নির্দেশনা তারা পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের জন্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে প্রতিটি সংসদীয় আসনভিত্তিক ‘সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সব দলই যেখানে ডিজিটাল প্রচারে গুরুত্ব দেবে, সেখানে বিএনপির স্বাতন্ত্র কোথায় তা তুলে ধরে দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘যেটা নতুন ও ইউনিক, তা হলো তারেক রহমান বলেছেন, ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি’। এই পরিকল্পনার মূল উপাদান হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণ, পরিবেশ উন্নয়ন এবং বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষা। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।’

প্রতিটি আসনে একজন করে সোশাল মিডিয়া ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি, তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। অপপ্রচার ও অপতথ্য মোকাবিলায় গঠন করা হয়েছে ডিজিটাল টিম।

প্রচার সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতারা বলছেন, এই আট দফা পরিকল্পনার লক্ষ্য রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঠামোগত সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনজীবনের মৌলিক সংকট মোকাবিলা। নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় একাধিক অনুষ্ঠানে ইতিমধ্যে তারেক রহমান জনকল্যাণকেন্দ্রিক এই আট দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এতে সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালুর মাধ্যমে স্বল্প ও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সার ও বীজসহায়তা সহজ করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

দলটির নীতিনির্ধারকেরা জানান, সাধারণ মানুষের কাছে পরিকল্পনাগুলো সহজ ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে প্রতিটি দফাকে আলাদা ‘কার্ড’ আকারে মাঠপর্যায়ে প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লিফলেট, পোস্টার, ডিজিটাল গ্রাফিকস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, সবখানেই এই ‘আট কার্ড’কে মূল বার্তা হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘এগুলো শুধু নির্বাচনী অঙ্গীকার নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপকল্প। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।’

ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণ, পরিবেশ উন্নয়ন ও বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষা—এই আট পরিকল্পনা ব্যাপকভাবে প্রচার করবে বিএনপি।

ভোটের মাঠে অপপ্রচার ও অপতথ্য মোকাবিলায় আলাদা ডিজিটাল টিম গঠন করেছে বিএনপি। ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দলের ও প্রার্থীদের বার্তা সমন্বিতভাবে পৌঁছে দিতে এই কাঠামো কাজ করছে। কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত কনটেন্ট, গ্রাফিকস ও ভিডিও বার্তা আসনভিত্তিক পেজে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ইস্যু তুলে ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারদের।

গত ডিসেম্বরেই প্রতিটি আসনে একজন করে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারসহ নির্বাচনী ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও সচল হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটের দিন কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, এজেন্টদের সমন্বয় এবং ডিজিটাল প্রচারণাকে আরও সুসংগঠিত করতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের কাছে দলীয় পরিকল্পনার প্রকৃত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচিও শুরু হয়েছে বলে দলটির সূত্রে জানা যাচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন ২২ জানুয়ারি থেকে। তারেক রহমান ওই দিনই সিলেট থেকে প্রচার শুরু করতে যাচ্ছেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসভা করবেন তিনি। তবে বেশির ভাগ জনসভায় তিনি ভার্চু৵য়ালি যোগ দেবেন বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

দলটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শুধু বিভাগীয় শহর ও বৃহত্তর জেলা শহরগুলোতেই তাঁর সরাসরি জনসভার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারের জন্য সময় পাওয়া যাবে মাত্র ২১ দিন। এত অল্প সময়ে দেশের সব জেলায় সরাসরি জনসভা করা বাস্তবসম্মত নয় বলেই অঞ্চলভিত্তিক জনসভা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পথে পথে সমাবেশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যে জনসভায় তারেক রহমান সরাসরি যোগ দিতে পারবেন না, সেগুলোতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন তিনি।

সিলেটের পর বড় শহরগুলোতে ধারাবাহিক জনসমাবেশের মাধ্যমে তারেক রহমান জাতীয় রাজনীতি, নির্বাচন, রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।

তবে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অন্তত একটি করে জনসভা আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর প্রার্থীরা। এসব অনুরোধ কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না বিএনপি নেতারা।

ভিওডি বাংলা/ এমএম/এমএইচপি


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গ ভোটে ঢাকার টাকা! নজরদারিতে শিল্পগোষ্ঠী
পশ্চিমবঙ্গ ভোটে ঢাকার টাকা! নজরদারিতে শিল্পগোষ্ঠী
তদবিরবাজদের ভীড়ে ত্যাগীরা যেন তীর্থের কাক
তদবিরবাজদের ভীড়ে ত্যাগীরা যেন তীর্থের কাক
আলোচনায় বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন, দাবি উঠেছে স্বাধীন কমিশনের
আলোচনায় বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন, দাবি উঠেছে স্বাধীন কমিশনের