ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি আলোচিত মামলার পলাতক আসামিকে রাজধানী ঢাকার লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম হাসিব চৌধুরী (২১)। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিকভাবে আসামি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আসামি হাসিব চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভুক্তভোগীকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার চরকমলাপুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় সে। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় আসামি ভুক্তভোগীর কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ভিডিও ও ছবি ধারণ করে নিজের মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ওই ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে আসামি।
ভুক্তভোগী অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, অভিযোগ রয়েছে যে আসামি ওই ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে তা মামলা হিসেবে রূপ নেয়।
থানায় দায়েরকৃত মামলায় আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর একাধিক ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মামলা নম্বর: ৪১ তারিখ- ১১/০৫/২০২৬
তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-১০ অধিনায়ক বরাবর সহযোগিতা চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠান। এর ভিত্তিতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং অভিযান পরিচালনা করে।
মঙ্গলবার (২ জুন) র্যাব-১০ জানায় রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে রাজধানীর লালবাগ থানাধীন পলাশীর মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি হাসিব চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র/আইডি কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের চারটি এটিএম কার্ড এবং একটি ইলেকট্রনিক ভ্যাপ উদ্ধার করা হয় বলে জানায় র্যাব।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে যে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল।
গ্রেপ্তারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধ দমনে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ডিজিটাল ও যৌন সহিংসতা সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভিওডি বাংলা/জা







