গ্রাহকের ৫ লাখ টাকা নিয়ে বিভ্রান্তি, ইসলামী ব্যাংকে উত্তেজনা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ইসলামী ব্যাংকের এক গ্রাহকের হিসাবে থাকা ৫ লাখ টাকা খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) ইসলামী ব্যাংকের জগন্নাথপুর শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গিয়ে হিসাবে অর্থ না থাকার কথা শুনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ছতর মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় ব্যাংক ব্যবস্থাপক শাখা ত্যাগের চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা তাকে আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
জানা গেছে, দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের বাসিন্দা ছতর মিয়ার ইসলামী ব্যাংকের জগন্নাথপুর শাখার হিসাবে ৫ লাখ টাকা জমা ছিল। কয়েকদিন ধরে তিনি ওই টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে তিনি অন্য একটি ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলে চেকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন। কিন্তু রোববার ইসলামী ব্যাংক শাখায় গিয়ে হিসাবের তথ্য জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, তার হিসাবে কোনো অর্থ নেই এবং টাকা অন্য একটি ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর হয়েছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সেখানে তার নামে কোনো অর্থ জমা হয়নি। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যাংকে এসে প্রতিবাদ জানান।
ভুক্তভোগী ছতর মিয়া ও তার স্ত্রী রুজিনা বেগম অভিযোগ করেন, তাদের একমাত্র ছেলে বর্তমানে লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে অর্থের প্রয়োজন হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছে না।
তাদের দাবি, কখনো বলা হচ্ছে টাকা অন্য ব্যাংকে গেছে, আবার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গেলে জানানো হচ্ছে কোনো অর্থ জমা হয়নি। ফলে তারা নিজেদের জমা রাখা টাকার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংকে উপস্থিত অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দেয়। কয়েকজন গ্রাহক অর্থ উত্তোলন ও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সফিক মিয়া বলেন, তিনিও টাকা তুলতে এসে সমস্যার মুখে পড়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাহক ভোগান্তির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক জগন্নাথপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. জহির উদ্দিন বলেন, গ্রাহকের টাকার বিষয়ে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সিস্টেমজনিত জটিলতার কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ভিওডি বাংলা/আ







