যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, আলোচনায় ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক গত সপ্তাহের প্রাথমিক চুক্তির ধারাবাহিকতায় শুরু হয়। যৌথ বিবৃতিতে কাতার ও পাকিস্তান জানায়, একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি ‘রোডম্যাপ’ নির্ধারণ করেছে। পুরো সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
আলোচনায় হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখা, ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে যোগাযোগ ব্যবস্থা গঠন এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে মার্কিন পক্ষ জানায়।
কাতার ও পাকিস্তান আরও জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে।
তবে আলোচনা চলাকালেই ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষ ও লেবাননে বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এক পর্যায়ে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিলেও জাহাজ চলাচল অব্যাহত ছিল বলে ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে।
আলোচনার বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, হুমকি অব্যাহত থাকলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জবাবে ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুঁশিয়ারি নাকচ করে বলেন, হুমকি দিয়ে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা জানান, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বন্ধে রাজি হয়, তবে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ রয়েছে।
এদিকে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান আলোচনার অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন পর্যবেক্ষকরা।
ভিওডি বাংলা/আ







