• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

৬০ দিনের সময়সীমায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু সমাধান অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৯ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীতইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও প্রযুক্তিগত শর্ত নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

 ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পরমাণু ইস্যুতে নতুন করে যে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যেই কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল–এর অনাবাসী সিনিয়র ফেলো টমাস ওয়ারিক। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম  আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আসন্ন আলোচনা এতটাই জটিল যে এটি নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়েও চলতে পারে।

টমাস ওয়ারিকের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী কোনো পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত অর্থনৈতিক সম্পদ ফেরত দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্য প্রয়োজন। কিন্তু এসব ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন।

তিনি বলেন, পারমাণবিক ইস্যু এমন এক জটিল সমীকরণ, যেখানে উভয় পক্ষকেই তাদের মূল ও সর্বোচ্চ দাবিগুলো থেকে কিছুটা ছাড় দিতে হবে। তা না হলে কার্যকর কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।

আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম। পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, ইরানকে তার মজুত ও সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমাতে হবে অথবা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

ওয়ারিক আরও বলেন, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে গেলে হাজার হাজার প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা কর্মীর প্রয়োজন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমনও দাবি রয়েছে যে, ইরানের সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রায় এক হাজার মার্কিন পরিদর্শকের প্রবেশাধিকার থাকা উচিত।

তার ভাষায়, ইরান এই ধরনের শর্ত মেনে নেবে-এটা কল্পনা করাও কঠিন।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এসব নিষেধাজ্ঞার অনেকগুলোই কংগ্রেস অনুমোদিত, যা নির্বাহী সিদ্ধান্তে সহজে প্রত্যাহার করা যায় না।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ফলে হোয়াইট হাউস চাইলেও পুরোপুরি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ওয়ারিক উল্লেখ করেন, মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ইরান যে ধরনের অর্থনৈতিক ছাড় দাবি করছে, তার কতটা বাস্তবে সম্ভব হবে-তা এখনো অনিশ্চিত।

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনার প্রযুক্তিগত দিকগুলো যেমন জটিল, তেমনি রাজনৈতিক বাধাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলেও আলোচনা থেমে যাবে না, বরং আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা 

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তুরস্ক থেকে ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা ফাঁস!
তুরস্ক থেকে ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা ফাঁস!
স্টারমারের বিদায়ের জল্পনা, ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
স্টারমারের বিদায়ের জল্পনা, ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি কারখানায় বিস্ফোরণ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি কারখানায় বিস্ফোরণ