ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, ক্ষোভ বাড়ছে চালকদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাদুঘর সংলগ্ন মেসার্স এস রহমান ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ মানুষ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই পাম্প এলাকায় শত শত মোটরসাইকেলের সারি চোখে পড়ে, যা সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও দীর্ঘ হতে থাকে।
সকাল আটটার আগেই অনেক চালক লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তেলের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পের আশপাশের সড়কজুড়ে মোটরসাইকেলের লম্বা সারি তৈরি হয়েছে, ফলে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রতি মোটরসাইকেলে মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত নয়।
একজন ভুক্তভোগী চালক বলেন, সকাল আটটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন প্রায় তিন ঘণ্টা হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও তেল পাইনি। কাজকর্ম সব বন্ধ রেখে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আরেকজন বলেন, মাত্র ৩০০ টাকার তেল দিয়ে কী হবে? এতে একদিনও ঠিকমতো চলা যায় না। এদিকে, হঠাৎ করে তেলের সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
কেউ কেউ বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাম্প কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছে। আবার অনেকে অভিযোগ করছেন, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবও এই সংকটের একটি কারণ হতে পারে।তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনের কারণে শুধু মোটরসাইকেল চালকরাই নয়, ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও। অনেকে পাম্পে ঢুকতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষজন বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরাও এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এভাবে দীর্ঘ লাইনের কারণে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা আশপাশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধান করবে, যাতে করে মানুষ স্বাভাবিকভাবে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করতে পারে।
ভিওডি বাংলা/আমিনুল ইসলাম আহাদ/আ







